কাজলদিঘী (১১২ নং কিস্তি)

❝কাজলদীঘি❞

BY- জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

১১২ নং কিস্তি
—————————

কিছু কিছু সমস্যা হয়েছে, স্বীকার করে নিচ্ছি।

সাদা ফোনটা বেজে উঠলো। বালিশের তলা থেকে ওটা টেনে বার করলাম।

অর্জুনের ফোন।

বল।

তোমার নার্সিংহোমের আশেপাশে তো প্রচুর সিআইডি ঘুরছে।

তুই কোথায়?

তোমাকে দেখবো বলে এসেছিলাম। ফিরে যাচ্ছি।

সাবধানে থাকবি। আর শোন—

কি বলো।

সতপাল রানাকে তুই উড়িয়েছিলি?

কেন ওরাব না। শালা তোমার গায়ে হাত দিয়েছে।

ও মরে নি।

জানি। শালা ঝিনুকটা একটা বাচ্চাকে বাঁচাতে গেল। একটু অন্য মনস্ক হয়ে গেলাম।

ফিরে যা। আমি না বলা পর্যন্ত কারুর গায়ে হাত দিবি না।

আমাকে এ্যাটাক করলে।

তখন আমার পার্মিশনের প্রয়োজন নেই।

ফোনটা কেটে দিয়ে আবার বালিশের তলায় রেখে দিলাম।

অনিমেষদা মুচকি মুচকি হাসছে।

আমাদের আসার সংবাদ দিল।

না।

তাহলে।

নার্সিংহোমের আশেপাশে প্রচুর সিআইডি ঘুরছে। সেটা জানাল।

ওর সঙ্গে আর কে কে এসেছে।

কেউ আসে নি। কাল সব এসে পরবে।

আর কাকে কাকে হায়ার করছিস।

তোমাকে জানতে হবে না। তুমি পারলে একটা সংঘবদ্ধ আন্দোলন করার চেষ্টা করো।

অনিমেষদা হাসছে।

অর্জুনের সঙ্গে আরও দুটো ছেলের নাম জানতে পেরেছি এরা আগের বারও এসেছিল।

প্রবীরদা ঢিল ছুঁড়ল। আমি তাকালাম।

হ্যাঁরে, যদি মনে কিছু না করিস তাদের নামটা বলতাম, তুই হ্যাঁ না বলতিস।

বলো।

ঝিনুক আর অভিমন্যু।

ওরা ওর সঙ্গে থাকে, এসেছিল কিনা বলতে পারবো না।

তোর মুড ঠিক নেই পরে আসবো।

প্রবীরদার বলা শেষ হলো না, সঙ্গে সঙ্গে বিধানদা অনিমেষদা উঠে দাঁড়াল।

দেখি যদি সময় পাই একবার সকালের দিকে আসবো। অনিমেষদা থেমে থেমে বললো।

তিনজনেই বেরিয়ে গেল।

কনিষ্কও ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

এরা জানল কি করে অর্জুন এসেছে? তাহলে কি ছিদাম বলেছে, না ইসলামভাই সব জায়গায় লোক লাগিয়ে রেখেছে! ইসলামভাইয়ের অর্জুনকে চনার কথা নয়। একমাত্র নেপলা আর শ্যাম ছাড়া অর্জুনকে কেউ চেনে না। নাম জানতে পারে।

মেয়ে বলছিল, আজ নেপলা বম্বেতে এসেছে। নতুন নম্বরটা মেয়ে দেবে বলেছে।

ফোনটা আবার টেনে বার করলাম। দেখলাম কনিষ্ক ঘরে ঢুকলো।

এখন বাইরে যা। যখন প্রয়োজন হবে বেল বাজাব। অরিত্র চলেগেছে?

না।

আমাকে কিছু গরম খেতে দিতে পারবি।

হরলিক্স কিংবা বোর্ণভিটা করে দিতে বলি।

তাই বল।

একবার প্রেসারটা একটু চেক করবো।

কর।

কনিষ্ক মেশিনটা টেবিল থেকে নিয়ে এসে কব্জিতে বাঁধল।

আর ঝামেলা করিস না। ক্লান্ত হয়ে পরেছি।

চুরি পরে বৌয়ের শাড়ির তলায় মুখ লোকা।

এই প্রশ্নের এই উত্তর হলো।

কেন হবে না। একজন কন্টিনিউ ক্ষমতা দেখিয়ে যাবে, আর আমি ঘরে বসে থাকব নুলোর মতো। তাও শালা চস্বর।

ঠিক আছে। আমি তোর কথা মেনে নিলাম। তবে অর্জুন-ফর্জুনকে ডাকছিস কেন।

লোহা লোহাকে কাটে। সোনা দিয়ে লোহা কাটা যায় না। লেদ কারখানায় কখনও গেছিস।

আচ্ছা বাবা অন্যায় করে ফেলেছি। ম্যাডাম ফোন করেছিল।

কেন।

তোর সঙ্গে কথা বলতে চায়।

এখন নয়, বলে দে সময় হলে আমি নিজে ফোন করবো।

মিলি বলছিলো মেয়েকে নিয়ে বিকেলের দিকে একবার আসবে।

এখন নয়। মন মেজাজ ঠিক নেই।

আমি যাচ্ছি, প্রয়োজন পরলে বেল বাজাস। কিংবা তোর গেটের সামনে সুবল বসে আছে ওকে বলিস।

আচ্ছা।

কনিষ্ক বেরিয়ে গেল।

ডায়াল করলাম।

অর্ক।

হ্যাঁ।

ভালো করে মন দিয়ে প্রথমে শুনে যা, পরে ক্লারিফাই করবি।

বলো।

তোকে আমার নার্সিংহোমের সামনে তোর টিম নিয়ে ডিউটি দিতে হবে।

এখন এই অবস্থায় কি করে সম্ভব!

কি করে তা বলতে পারবো না। তবে এটুকু বলতে পারি সামনে গঙ্গাসাগরের মেলা, প্রচুর সন্ন্যাসী কলকাতায় আসতে শুরু করেছে। এবার কি বেশ ধরবি না ধরবি তোর ব্যাপার। কামিং আটচল্লিশ ঘণ্টা তোকে বসে থাকতে হবে। উইথ টিম এবং মেটিরিয়াল সমেত। এখন থেকে ঠিক আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে একটা ঘটনা ঘটবে, তার টোটাল ভিডিও ক্লিপিংস আমার চাই।

চার ফেলেছো।

এখনও ফেলি নি। এবার ফেলবো।

ফেলো আমি রেডি হই। সবে শীত পরেছে তুমি বড্ড জ্বালাতন কর।

এখানে বসার আগে আর একটা কাজ করতে পারবি।

বলো।

তুই যে সিডিগুলো দিয়েছিলি, সেগুলো ও বাড়িতেই আছে।

সব ঘর তালা মেরে শিল করা।

ওরা কি বাড়ি তল্লাশি করেছিল?

সেটা করতে পারে নি।

তাহলে!

অনুপদা তার আগেই কোর্টের অর্ডার বার করে নিয়েছিল। তুমি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোনও কিছু করা যাবে না। অতএব স্থগিতাদেশ। বাড়ির সব ঘরে তালা মেরে শিল করা অবস্থায়।

সেদিন শুভ কি স্টিল তুলেছিল না ভিডিও।

দুটোই করেছিল। তোমাকে যখন গাড়িতে তোলা হয়েছিল, সেই সময় শুভ ভিডিও মেরেছিল কিন্তু ঠিক ঠাক আসে নি। সামান্য হেজি হয়ে গেছিল। তবে অটো স্টিল মেরেছিল। সেখান থেকেই ছবিগুলো পরেরদিন কাগজে প্রিন্ট মেরেছিলাম।

মালগুলো কথায়?

অফিসে, দ্বীপায়ণদার ল্যাপটপে আছে।

সুপ্রিয় ঘোষ, দিলীপ পালকে সাসপেন্ড করলো কেনো?

তোমাকে সাহায্য করেছে।

সেটা কাগজে কলমে বলতে পারে না। পুলিশ কাস্টডিতে আনোয়ার আর সাকিল কিভাবে মারা গেল সুপ্রিয়বাবুকে তার ক্লারিফাই করতে বলা হয়েছে। আর দিলীপবাবুকে কাজে গাফিলতির অভিযোগে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

কেশটা কে লড়ছে।

নিজেরা, ওরা শো কজের জবাব দিয়েছে। তবে সরকার ব্যাপারটাকে ঝুলিয়ে রেখেছে।

সুকান্তর ব্যাপারটা কি?

স্যাড।

কেন।

রিজাইন দিয়ছিল। কিন্তু রিজাইন লেটার এ্যাকসেপ্ট না করেই ওকে এ্যারেস্ট করে কোর্টে তুলে দেয়, এলিগেসন দিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে ওর জোগ সাজস আছে।

ওর কেশটা কে লড়ছে?

অনুপদা। কোর্টে কাঁচা খুলে দিয়েছে সরকারের। তারপর কেশটাকে সুপ্রীমকোর্টে টেনে নিয়ে গেছে। সুকান্ত জামিন পেয়েগেছে।

রিজাইন লেটার?

বলতে পারবো না। তবে মনেহয় এখনও কিছু হয়নি, ওই অবস্থায় পরে আছে।

ছেলেটা আছে কোথায়?

বসে নেই, দেবাদা কাজে লাগিয়ে দিয়েছে। বরং আগের থেকে মস্তিতে আছে। চুটিয়ে পড়াশুনো করছে। আইপিএস পরীক্ষা দিয়েছে।

চিকনাকে আমার এই নম্বরটা দিতে পারবি?

জানিয়ে দিয়েছি।

আমার নামে কি কি এলিগেশন নিয়ে এসেছে।

তুমি জান না!

আমার সঙ্গে অনুপের কথা হয় নি। সবে তো ওরা এসেছিল….।

অরিত্রর কাছ থেক শুনলাম। তোমার চালটা ওরা ধরতে পারে নি। যখন ধরতে পরেছে তখন পাখী উড়ে গেছে।

হ্যাঁ।

তোমার নামে সব এলিগেসন করেছে। দেশদ্রহী থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যোগ সাজস।

খুব ভালো। সব উইথড্র করে নেবে।

আমি যা দুটো মাল পেয়েছি না, তোমায় পাঠাব, একবার দেখে নিও।

পাঠাস। শোন।

বলো।

তোকে ও বাড়িতে একবার যেতে হবে।

কেন?

আমাদের বাগানের পেছনে গাড়ি রাখার যে ভাঙা টিনের সেডটা রয়েছে।

হ্যাঁ।

ওখানে দেখবি একটা পুরনো ভাঙাচোড়া চৌবাচ্চা রয়েছে। শুকনো কিন্তু নোংরার ডিব্বা।

ব্যবহার করলে তো পরিষ্কার থাকবে।

ওর ভেতরে একটা কাঠের বাক্সে আমার মালগুলো সব রয়েছে। একবার নিয়ে আসতে হবে।

এই তিনমাসে সব ঠিক ঠাক আছে তো?

এয়ার টাইট করা রয়েছে। তাছাড়া ওয়েবে ডাম্প করে রেখেছি।

তাহলে হয়তো….।

আশা রাখি নষ্ট হবে না। বুঝতে পারিনি ব্যাটা দুম করে একটা ঘুসি মেরে দেবে। এমন আলটপকা মারলো, ঘোরন চেয়ার থেকে উল্টে পরে গেলাম। তারপর আর কিছু জানি না।

তোমার মাথার পেছন দিকটা একবারে থেঁতলে গেছিল।

চুল থাকলে অতটা লাগতো না। ন্যাড়া মাথা বেট্টকর লেগে গেছে।

প্রচুর ব্লিডিং হয়েছিল। ভেতরেও ক্লড বেঁধে গেছিল। নার্ভাস সিস্টেমে কি প্রবলেম হয়েছিল। সে অনেক কথা। তোমাকে পরে বলবো।

ওদের কিছু মাল পত্র পেয়েছিস।

দুটোর পেয়েছি। একজন সত্যি খুব সাধারণ, বলতে পার নিপাট ভদ্রলোক।

কে বলতো?

শৌণক লাহিড়ী।

লোকটা খুব ধীর স্থির ভাবে কথা বলছিলো।

শুনেছি ভদ্রলোক মিঃ রাণাকে অফিসিয়াল চিঠি ধরিয়েছিলেন।

তাই!

হ্যাঁ। তারপরেই তো মিঃ রাণাকে ঝেড়ে দিল।

কে রে। তাহলে তো সব ঘুটি নতুন করে সাজাতে হবে।

নেকু। দেখো অর্কর বয়সটা এখন উনিশ-কুড়ি নয়, থার্টি এইট প্লাস।

হাসলাম। ঠিক আছে রাখছি।

রাখো।

কালরাতে শুতে শুতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

মিত্রারাই গেল প্রায় রাত নটার সময়।

যাওয়ার সময় আমার হাতে পায়ে ধরে বলে গেছে, আর ঝামেলা করিস না। যা হবার হয়ে গেছে। বড়োমা, ছোটোমা, দামিনীমাসি, জ্যেঠিমনির মুখটা অনেক বেশি পরিষ্কার ছিল।

মিলি মেয়েটাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল। এই তিনমাসে যেন আরও বেশি টরটরি হয়েছে। সুরোও ছেলেটাকে নিয়ে এসেছিল।

প্রথমে সব মুখগুলো থম থমে ছিল। তারপর হাসি-ঠাট্টা-ইয়ার্কি-ফাজলামো মারতে মুখ গুলো সব আগের অবস্থায় এলো।

লাল ফোন থেকে যাকে যাকে ম্যাসেজ করে জানাবার সব জানিয়ে দিয়েছি।

রাতে খাওয়া দাওয়া করে লিখতে বসেছিলাম। কনিষ্ক এসে তিন চারবার খিঁচিয়ে গেছে। লেখাটা শেষ করে দ্বীপায়ণকে মেল করে শুয়ে পড়েছিলাম।

এই ঘরে থাকা মানে বাইরের জগৎ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরা। শুধু মেশিনগুলো নেই, থাকলে ঘরটাকে কেমন কিম্ভূত-কিমাকার লাগত।

বেডের সঙ্গে ঝোলানো বেলটা বাজালাম।

পাখির মতো তি তি করে ডেকে উঠলো।

সুবল দরজা খুলে মুখ দেখাল।

ইসারায় ভেতরে ডাকলাম।

কাছে এলো।

কোনও খবর আছে?

অর্কদা একটা বাক্স পাঠিয়েছে।

কার হাত দিয়ে?

ছিদামদার হাত দিয়ে।

কোথায়?

আমার কাছে আছে।

সাবধানে রাখ, যখন চাইব দিবি।

আচ্ছা।

কনিষ্কদারা কোথায়?

নিচে আছে। মনেহয় পেসেন্ট পার্টির সঙ্গে কথা বলছে।

আমাকে একটু ব্রাসে মাজন লাগিয়ে দে। বাথরুমে যাই।

সুবল টেবিলের ওপর থেকে মাজন নিয়ে ব্রাসে লাগাতে লাগাতে বললো।

সন্দীপদা ফোন করেছিল।

কেন।

আপনি উঠেছেন কিনা জানতে চেয়েছিল।

ফোন করে বলে দে আসতে। একবার নীরুদাকে ডাক।

সুবল বেরিয়ে গেল।

কাল মিত্রা ব্যাগে করে দুটো পাজামা পাঞ্জাবী নিয়ে এসেছিল। রেখে গেছে। বার বার বলেছে, নার্সিংহোমের পোষাকে তোকে দেখতে ভালো লাগছে না। কেমন রুগী রুগী লাগছে। পাজামা পাঞ্জাবী রেখে গেলাম পরে নিস।

মিত্রার কথাটা ইচ্ছে করেই রাখলাম না। আইনকে আইনের রাস্তায় চলতে দিতে হবে।

মাথার চুলগুলো কিছুতেই বারছে না। কদম ছাঁটের মতো। এরা মনে হয় সমানে ন্যাড়া করে রেখেছিল। একবার আয়নায় ভালো করে দেখতে হবে, মাথার কোথায় অপারেশন করেছে।

নীরু ঘরে ঢুকলো।

রেডি।

হ্যাঁ।

চা খাবি?

খাওয়া যাবে?

কেন যাবে না। এখন তুই ফিট। নর্মাল লাইফ লিড করতে পারিস।

ঠিক বলছিস। পেছন ধরে টেনে রাখবি না।

ওমনি সুযোগ পেয়ে গেলি। ওষুধগুলো এখনও তিনমাস চলবে। তারপর একবার ফাইন্যাল চেকআপ। তারপর বলতে পারি তুই ফিট।

শ্রীপর্ণাকে অনেকদিন দেখি নি।

তুই দেখিস নি, ও তোকে দেখে যায়।

হবে হয়তো। এখন কোথায় আছে?

নিচে আছে পেসেন্ট দেখছে।

এই নার্সিংহোমে!

হ্যাঁ। আগেরটা ছেড়ে দিয়েছে। এখন ড্যাবা-ডেবী এখানেই।

সুবলকে বল চা আনতে।

নিচে কয়েকজন বসে আছে। তোর সঙ্গে দেখা করতে চায়।

কারা?

ভিজিটিং কার্ডে যা লেখা আছে, তাতে মনে হচ্ছে প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি।

কি বলতে চায়?

তোর সঙ্গে দেখা করতে চায়।

কতক্ষণ এসেছে?

প্রায় আধাঘণ্টা। আমি এসেছিলাম, তুই তখন বাথরুমে গেছিলি।

হ্যাঁ, সুবল হেল্প করলো।

আজকের কাগজ ফাটাফাটি।

কেন!

তোর আর্টিকেলগুলো নিয়ে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সকাল থেকে কপচাতে শুরু করেছে।

বাই নেমে বার করেছে নাকি?

না। নিজস্ব প্রতিনিধি।

সন্দীপের বুদ্ধি আছে। কনিষ্ক কোথায়?

নিচে আছে। হাতের কাজগুলো শেষ করুক।

যা ওদের ডেকে নিয়ে আয়।

নীরু বেরিয়ে গেল।

একবার অর্ককে ফোন করলাম।

রিং হওয়ার পর কেটে যাচ্ছে।

বুঝলাম ব্যাটা অর্ক কেটে দিচ্ছে। আর করলাম না।

বন্ধ করে আবার বালিশের তলায় রেখে দিলাম।

সুবল ঘরে ঢুকে আজকের কাগজটা দিয়ে গেল। খাটটাকে একটু তুলে দিয়ে গেল। আমি হেলান দিয়ে বসে কাগজটা দেখতে লাগলাম।

লে আউট প্ল্যানিংটা অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অনেক বেশি ঝক ঝকে লাগছে। তিনটে নিউজই বেশ ভালো প্লেস করেছে। কাগজ হাতে নিলেই সবার চোখ পড়ে যাবে। অনেকদিন আগের লেখা, পড়তে শুরু করলাম।

না, খুব একটা খারাপ লিখি নি সেই সময়, এখন লিখলেও এর থেকে খুব একটা ভালো লিখতাম না। ছবিগুলোও বেশ লাগিয়েছে, এখনকার এবং তখনকার। মনে মনে সন্দীপকে তারিফ না করে পারছি না। লেজুড়ে আবার অরিত্রর একটা লেখা জুড়ে দিয়েছে।

স্যার।

কাগজ থেকে মুখ সরালাম। চশমাটা চোখ থেকে খুলে হাতে নিলাম।

সুবল দাঁড়িয়ে।

নীরুদা তিনজন ভদ্রলোককে নিয়ে এসেছেন।

ভেতরে আসতে দে।

সুবল বাইরে বেড়িয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর নীরুর সঙ্গে তিনজন ভদ্রলোক এলেন। দু-জন বেশ ইয়ং একজন বয়স্ক।

ঘরে চেয়ার ছিল। ওনাদের বসতে বললাম।

আপনি অসুস্থ, খুব খারাপ লাগছে। সরকারি চাকরি করি তাই আসতে হলো।

সবাই হাতজোড় করে নমস্কার করলেন আমিও প্রীতি নমস্কার জানালাম।

আমি শ্রীধর গোস্বামী স্বরাষ্ট্রদপ্তরের জয়েন্ট সেক্রটারি। বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন।

আমি অতীন সান্ন্যাল কৃষি দপ্তরের জয়েন্ট সেক্রেটারি।

আমি অসিত হালদার দক্ষিণবঙ্গ উন্নয়ণ পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারী।

হাসলাম।

একজন নার্স এসে চা কিছু স্ন্যাক্স দিয়ে গেল।

আবার এসবের ব্যবস্থা করলেন কেন? গোস্বামীবাবু বললেন।

সকাল থেকে চা খাই নি। আমি খাব আপনারা চেয়ে থাকবেন তা হয় না।

চায়ে চুমুক দিলাম।

নীরু চুপচাপ মেপে যাচ্ছে। বুঝলাম গোস্বামীবাবু এদের লিড করছেন। ট্রিপিক্যাল এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ লোক জন।

আমরা আপনার কাছে একটা দরকারে এসেছিলাম।

বলুন।

আপনাদের কাগজে আজ কয়েকজন সচিবের এগেনস্টে রিপোর্ট বেরিয়েছে।

আমি একবার চোখ বুলিয়েছি। কি লিখেছে দেখি নি।

যিনি লিখেছেন তার সঙ্গে আমাদের সচিবরা একটু বসতে চান।

ওটা কাগজের ব্যাপার এডিটরকে চিঠি দিন। তিনি যদি পার্মিশন দেন তবে সেই সাংবাদিক নিশ্চই আপনাদের সঙ্গে দেখা করবে।

শ্রীধরবাবু হাসলেন।

আপনি একবার বললে ব্যাপারটা মিটে যায়।

বুঝলাম কথার মধ্যে এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্যাঁচ।

সরি কাগজের ব্যাপারে আমি কোনও কথা বলতে পারবো না। কেন ইয়োল জার্নালিজম করেছে নাকি? তা যদি হয় তাহলে আমি এডিটরের সঙ্গে কথা বলতে পারি।

না না।

তাহলে।

আপনি তো কম বেশি সব জানেন।

কিছুই জানি না। অসুস্থ হয়ে তিনমাস নার্সিংহোমে পরে আছি। একবার ফিট হই, আবার অসুস্থ হয়ে পরি। ডাক্তাররা ফিট সার্টিফিকেট দিচ্ছে না।

নীরববাবু বলছিলেন, কাল আপনি অসুস্থ হয়ে পরেছিলেন।

তারপর আপনাদের প্রশাসন যেভাবে আদা-জল খেয়ে আমার পেছনে পরেছে।

আর দু-জন মুচকি মুচকি হাসছে।

আপনাদের কি দরকার বলুন?

আমরা শ্রীধরবাবুর সঙ্গেই এসেছি।

সবার প্রয়োজন সেই সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করা।

তিনজনেই হাসছেন।

ঠিক আছে আপনারা জান। আপনাদের সচিবদের বলুন ইয়লো জার্নালিজম করেছে বলে সেই সাংবাদিকের নামে গুছিয়ে একটা ফলস কেশ করে দিতে। কোর্টের সমন পেলে সেই সাংবাদিক বাপ বাপ বলে কোর্টে হাজির হয়ে যাবে।

তাহলে আমরা আপনার কাছে আসতাম না।

তার মানে কাগজে যা বেড়িয়েছে তা সত্যি বলে মেনে নিচ্ছেন।

তিন জনেই চুপ করে রইলো।

এবার শ্রীধরবাবু তাঁর ফোলিও ব্যাগ থেকে একটা খাম বার করে আমার হাতে দিলেন।

এটা একেবারে ব্যক্তিগত চিঠি। আপনাকে লেখা। কোন পর্যায়ে ব্যাপারটা গেলে আপনাকে সচিব লিখতে পারেন সেটা আপনাকে বুঝিয়ে বলতে হবে না।

দিন রেখে দিচ্ছি। এই মুহূর্তে পড়ার মতো মানসিকতা নেই ভীষণ ক্লান্তি বোধ করছি।

না না আপনি রেস্ট নিন। আমরা এখন আসছি।

কাল রাতে ঘুমটা ঠিক হয় নি। গোটা তিনেক বড়ো বড়ো হাই উঠলো।

নীরু উঠে এলো।

কিরে শরীর খারাপ লাগছে নাকি।

না। ঠিক আছে।

তিনজনেই নমস্কার বিনিময় করে চলে গেল।

নীরু উঠে এসে প্রেসারের ঘরিটা আমার কব্জিতে বেঁধে দিল।

সুবল দরজা খুলে উঁকি মারল।

কিরে সুবল।

স্যার ম্যাডাম আর দিদিমনি এসেছেন।

কোথায়?

ওপরে নিজের ঘরে বসেছেন।

ডাক।

নীরুর দিকে তাকালাম।

কি দেখলি।

নিচেরটা একটু কমে গেছে। খাওয়া দাওয়াটা ভালো করার দরকার।

কেন তোদের নার্সিংহোমের খাবার ঠিক নেই।

ওমনি ছিদ্র খুঁজতে লেগে পরলি।

আমি শুধু জিজ্ঞাসা করলাম।

তোর ওই জিজ্ঞাসাটাই হাড়ে গিয়ে বিঁধলো।

তুই কবে থেকে মেয়েছেলে হলি।

ব্যাটাছেলে ছিলাম কবে।

মিত্রা, অনিসা ঘরে ঢুকলো।

নিরু চেঁচাচ্ছ কেন। মিত্রা বললো।

আর বোলো না। একটু ভালো হয়েছে, অমনি চুলকতে শুরু করেছে।

বলো না, প্লিজ বলো না। একটু ন্যাকামো করে নীরুর হাতটা ধরলাম।

কি বলবো।

ব্যাটাছেলে কবে থেকে হলি।

অনিসা আছে।

মেয়ে মুখে হাত দিয়েছে।

মিত্রা কাছে এগিয়ে এলো।

তোমরা বসো আমি একটু আসছি। ওর খাবার নিয়ে এসেছো।

বড়োমা আসবে ঘণ্টা খানেক বাদে।

ঠিক আছে আমি ডিমটোস্ট, কলা, দুধ পাঠিয়ে দিচ্ছি। বাবুর লো-প্রেসার।

মিত্রা কিছুক্ষণ নীরুর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো। তারপর ফিক করে হেসে ফেললো।

নীরু বেরিয়ে গেল।

মিত্রা এসে আমার কপালে হাত রাখলো।

কাগজ পড়ছিলি।

একটু চোখ বোলাচ্ছিলাম।

বাবা তোমার এইটা এখনও খোলে নি।

মেয়ে আমার হাতের চ্যানেলটায় হাত দিয়ে বোললো।

কনিষ্কমামা বলেছে যাওয়ার সময় খুলে দেবে। আবার যদি দরকার লাগে।

তোমার অসুবিধে হচ্ছে না?

তা একটু হচ্ছে। দাদা কোথায় রে?

কলেজে গেছে। বললো বিকেলে আসবে।

তুই যাস নি?

আমার আগামী সপ্তাহে টেস্ট তাই এ সপ্তাহে যাব না বলে এসেছি।

টেস্ট মানে!

বারে পার্ট ওয়ান দিতে হবে না।

ওরে বাবা তুই তো অনেক বড়ো হয়ে গেছিস।

মিত্রা মুখ টিপে হাসছে।

জানো, আজ সকাল থেকে বাড়িতে কতো লোক।

আবার কারা এসেছে!

অনেকে। দুদুন আজকে একা একা বাগানে হেঁটেছে।

তাই!

তুমি কাগজে লিখেছো—

সেই আনন্দে—

হ্যাঁ—

কারা কারা এসেছে বললি না।

সবাই এসেছে কতো নাম বলি বলো।

এই নে তিনমাসের ইতিহাস পড়তে চেয়েছিলি কালকে।

মিত্রা ব্যাগ থেকে একটা ডাইরী বার করে আমার হাতে দিল।

একজন নার্স ঘরে ঢুকলো খাবার নিয়ে। পেছন পেছন কনিষ্ক।

তোমরা কখন এলে?

অনেকক্ষণ।

কই জানি না।

তুমি তখন অপারেশন থিয়েটারে ছিলে।

আর বোলো না, সকাল থেকে এক ভদ্রমহিলাকে নিয়ে বড়ো ফ্যাসাদে পড়েছিলাম।

এখন ঠিক আছে?

কোনও প্রকারে খাঁড়া করেছি। এবার ওষুধ দিয়ে দাঁড় করাতে হবে।

কি হয়েছিল?

ইউট্রাসে টিউমার। কোন ডাক্তারকে দেখিয়েছিল, তিনি বলেছেন প্রেগনেন্ট। প্রচুর ব্লিড হচ্ছিল। ভাগ্যিস নিয়ে চলে এসেছিল। না হলে বাঁচানো মুস্কিল হয়ে যেত।

কি করে বুঝলে।

আমি প্রথমে দেখিনি। একজন জুনিয়র দেখছিল। ওর কেমন সন্দেহ হয় ভদ্রমহিলার বয়স দেখে। তারপর আমাকে ডাকে। আমারও সন্দেহ হয়। নীরুকে আমার সন্দেহের কথা বললাম। ও ব্যাটা দেখেই বললো এখুনি অপারেট কর। ব্যাপার ভালো বুঝছি না। লড়ে গেলাম।

আমার দিকে তাকাল।

তোর নাকি এখন সব নিম্নগামী।

নীরু তাই বললো।

কাল রাতে ঘুম ঠিক হয় নি তাই।

কাল রাতে ঘুমোয় নি! মিত্রা বললো।

তিনটের সময় শুয়েছে। তাও খিঁচিয়ে উঠতে।

ওকে ছেড়েদাও আমি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।

আর দু-দিন অপেক্ষা করো।

আমার দিকে তাকাল।

খেতে শুরু কর।

আমি একা এতো খেতে পারবো না।

ঠিক আছে আমি একটা খাচ্ছি। বাকিটা তুই খা। তোর সচিবের লোকজন কি বললো।

আমার না। তোকে কে বললো?

তখন আমি নিচে ছিলাম। নীরুকে ভিড়িয়ে দিলাম। সবে মাত্র ওটি থেকে বেরিয়েছি। নীরুর ট্যাক ট্যাকানি শুনে ওনারা বললেন আমরা বসছি। হাত খালি হলে বলবেন।

তারপর তো নিচে গিয়ে তোর ডায়লাগ ঝাড়ল।

বটা ছোট ছোট করে তবলার ঠেকা দিচ্ছিল। দু-জনে লেগে গেল, আমি ওপরে উঠে এলাম।

তোমরা বন্ধুরা কতো ভালো, আমাদের বন্ধুগুলো ভীষণ সেলফিস। নিজেরটা ছাড়া কিছু বোঝেনা। অনিসা কনিষ্কর দিকে তাকিয়ে বললো।

বুঝলি অনিসা, আমরা কতটা ভালো কতটা খারাপ বলতে পারবো না। তবে তোর বাবার কাছ থেকে কি করে একসঙ্গে হই হুল্লোড় করে বেঁচে থাকতে হয় সেটা শিখেছি।

তাতে এক সঙ্গে লড়াই করার মানসিকতাও তৈরি হয়ে গেছে। ফলে কেউ একক ভাবে হেরে গেলে এখন আর দুঃখ পাই না। ভাবি এই হারটা আমাদের সকলের, আমরা সকলে হারটা ভাগ করে নিই। জেতার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই।

অনিসা গিয়ে পেছন থেকে কনিষ্কর গলাটা জড়িয়ে ধরলো।

কনিষ্ক পাঁউরুটির একটা কোনা অনিসার মুখের কাছে এগিয়ে দিল।

এক কামড় দে।

অনিসা পাঁউরুটির একটা কোনায় কামড় দিল।

ওরা এসেছিল কেন? মিত্রা আমার দিকে তাকাল।

যে সাংবাদিক লেখাটা লিখেছে তার সঙ্গে দেখা করতে চায়।

তুই কি বললি?

কাগজের এডিটরকে চিঠি দিতে বললাম। তারপর যাওয়ার সময় আমাকে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে গেল।

কি লিখেছে?

এখনও পড়ি নি।

দেখি দে।

আমি খামটা মিত্রার হাতে দিলাম। জল খেলাম।

মিত্রা নিজে থেকেই খামটা খুলে চিঠিটা পড়লো। আমার মুখের দিকে তাকাল।

তোকে রিকোয়েস্টের সুরে হুমকি দিয়েছে।

কি লিখেছে?

শরীর খারাপের অছিলায় কতদিন পড়ে থাকবি। আর এসব লিখে বিশেষ নাড়াচাড়া ফেলা যাবে না। তাতে নিগোসিয়েসনে গেলে আখেরে তোর লাভ। নাহলে আইন আইনের রাস্তায় চলবে।

কে লিখেছে?

স্বরাষ্ট্রসচিব।

নিজের প্যাডে?

না। সাদা কাগজে।

ডেট ফেট কিছু লেখা আছে।

না। শুধু ডিয়ার মিঃ ব্যানার্জী বলে লেখা। তলায় শর্ট সিগনেচার। সইটা চিনি বলে বলতে পারলাম।

কি করে চিনলি?

এই সইয়ের কতো চিঠি এই তিন মাসে রিসিভ করেছি।

এই ভদ্রলোক নিরঞ্জনদার বোনের হাজব্যন্ড। ঠিক আছে, তোরা এখন যা। বিকেলে আসিস।

অমনি মাথাটা চক্কর মেরে উঠলো। মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

না।

তাহলে।

কয়েকটা কাজ আছে সেরে ফেলি।

তোকে আর কিভাবে বললে তুই আমার কথা শুনবি।

কেন আমি তোকে কথা দিয়েছি, আর এইসব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাব না। এবার থেকে তুই তোর ব্যবসা দেখবি। আমি বিন্দাস বাদশা বনে যাব।

এ জন্মে হবে?

হবে হবে, তখন দেখবি আপশোষ করছিস।

আমার কপাল এতো ভালো নয়।

মিত্রার ফোনটা বেজে উঠলো। ব্যাগ থেকে ফোনটা বার করে আমার দিকে তাকাল।

অনুপ ফোন করেছে। কথা বলবি?

তুই বল, কি বলে দেখ।

ভয়েজ অন করি শোন কি বলে।

হ্যাঁ বলার আগেই মিত্রা ফোনটা ধরলো।

ম্যাডাম।

বলছি।

একটা গুড নিউজ আছে।

বলো শুনি।

তুমি কোথায়?

নার্সিংহোমে।

কেন!

তোমার বন্ধুর কাছে বসে আছি।

শরীর খারপ নাকি!

না।

তাহলে এতো সকালে?

অফিস যাবার পথে একবার দেখা করতে এলাম।

কালকের মধ্যে বাড়ির দরজা খুলে দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার।

আমি এখুনি ডিপার্টমেন্টে ফ্যাক্স করে দিচ্ছি। কাল রাতে খানা পিনার ব্যবস্থা করো। অনির এক চিঠিতে পাশার ঘুঁটি উল্টে দিয়েছি। হিমাংশু তোমাকে ফোন করেছিল।

না।

মনে হয় ওকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলাম সেটাও হয়ে গেছে।

ওর সঙ্গে কথা হয় নি।

আমার জুনিয়ররা সেইরকমই বললো। ইসলামভাই, আবিদ, রতনকে ওপেন হতে বলো। কারুর ক্ষমতা নেই ওদের গায়ে হাত দেয়।

আমি তিনজনকে কনফারেন্সে দিচ্ছি তুমি বলে দাও।

অনি কোথায়?

তোমার কথা শুনছে।

জেগে আছে না অভিনয় করে চলেছে।

জেগে আছে। একটু দাঁড়াও ওদের ধরছি।

মিত্রা কনফারেন্সে ওদের ধরলো।

বল মামনি কি হয়েছে। অনি ভালো আছে?

ইসলামভাইয়ের গলায় উৎকণ্ঠার সুর।

হ্যাঁ। তোমার কথা শুনতে পাচ্ছে। তুমি একটু ধরো, আমি একটু আবিদ, রতনকে ধরছি অনুপ কথা বলবে।

কেন কোনও খারাপ খবর!

না।

মিত্রা একে একে সবাইকে ধরলো। সবাই প্রথমে আমার কথা জিজ্ঞাসা করছে, আমার কিছু হয়েছে কিনা। আজ কাগজে নিউজটা বেরবার পর কোনও গণ্ডগোল হয়েছে কিনা।

অনুপ শুনতে পাচ্ছ সবার গলা। মিত্রা বললো।

হ্যাঁ।

এবার তুমি নিজে বলে দাও ওদের সবাইকে।

ইসলামভাই।

হ্যাঁ। বলো। ওখানকার পজিসন কি?

গুড নিউজ। বাড়ির ব্যাপারে অর্ডার পেয়ে গেছি। রায় হাতে পাওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দিতে হবে। আমি এখুনি ফ্যাক্স করে দিচ্ছি। তোমাদের ব্যাপারে স্থগিতাদেশ পেয়ে গেছি। এখন তোমাদের আর পাঁচবছর গায়ে হাত দিতে পারবে না। ওরা এসে সুপ্রীম কোর্টে প্লিড করুক আগে, তারপর বোঝা যাবে। তোমরা এখন নিশ্চিন্ত। তোমাদের কাজ শুরু করে দাও। কাল রাতে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করো। একবার হিমাংশুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিও। পারলে ওর সঙ্গে দেখা করো। আমি রাতের ফ্লাইটে না হলেও কাল সকালের ফ্লাইটে যাচ্ছি। গিয়ে সব বলবো।

অনির ব্যাপার।

ও কি আমার জন্য বসে আছে। তোমরা কোনও খবর পাও নি।

না।

খবর নাও সব বুঝতে পেরে যাবে।

মানে!

এখন রাখছি একটু তাড়া আছে।

আচ্ছা।

সব শুনলে। মিত্রা বললো।

হ্যাঁ ম্যাডাম সব শুনলাম। রাখছি, পরে কথা বলছি তোমার সঙ্গে। অনিদা যে মোবাইলটা এখন ব্যবহার করছে ওটা অন করে রাখতে বলো। ওটা স্যুইচ অফ। আবিদ বললো।

তোমাদের কথা শুনতে পাচ্ছে।

অনিদা।

বল।

এখুনি তোমার কাছে যাচ্ছি। দেখা করতে দেবে।

আজ নয়, কাল রাতে।

আজই। ভীষণ দরকার।

বিকেলে আসিস এখন নয়, আমি একটু ব্যস্ত থাকব।

প্লিজ।

একবার না বলেছি।

তুমি বারণ করলেও শুনবো না।

মামনি তোরা কি এখন নার্সিংহোমে আছিস? ইসলামভাই বললো।

হ্যাঁ।

আধঘণ্টা অপেক্ষা কর। আমি আসছি।

মিত্রা ফোনটা অফ করতেই আমি বললাম ঠিক আছে এখন ঘর থেকে তোরা বেরো। আধঘণ্টা পর আসবি।

বেরোব না।

তাহলে আমাকে বেরিয়ে যেতে হবে।

তোকেও বেরতে দেব না।

জেদ করিস না।

আমি যাব না।

ঠিক আছে, মা তুই আর কনিষ্ক একটু বাইরে যা।

অনিসা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।

কনিষ্ক থাকবে, মেয়ে চলে যাচ্ছে। আমি তোকে হারে হারে চিনি। এবার যা কিছু আমার সামনে করবি।

আমি চুপ করে গেলাম।

মা তুই সুবলদাকে একটু চায়ের কথা বল।

অনিসা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

সুবল দরজার ফাঁক দিয়ে মুখ বার করলো।

আমার পার্মিসন ছাড়া এখন কেউ ঘরে আসবে না। আমার পরিচিত যদি কেউ হয় সেও না।

আচ্ছা স্যার।

দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

পামটপটা খুলে বসলাম।

তোরা ওই চেয়ারে বোস। কেউ কোনও কথা বলবি না। আমার কথা যদি সহ্য করতে না পারিস নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবি, মুখে রা-টি করবি না।

লাল ফোনটা বালিশের তলা থেকে টেনে বার করলাম।

কনিষ্ক মিত্রার মুখটা থম থমে। রেকর্ডিং-এর তার আমার পামটপে লাগিয়ে রিং করলাম।

ওরা একদৃষ্টে আমাকে দেখে যাচ্ছে।

হানিফ।

হ্যাঁ দাদা।

কাল যা দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কতটা আদায় করতে পেরেছিস।

শালা হারামী কিছুতেই বলছে না।

ভয়েজ অন করে ওকে ডাক।

সকাল বেলা ভালো মতো বিট দিয়েছি।

কাজ হয় নি?

না।

ঠিক আছে। ডাক।

বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ। একবার ওদের মুখের দিকে তাকালাম। সমস্ত রক্ত যেন দুজনের মুখে উপচে পড়েছে। থম থমে মুখ।

হ্যালো।

দিবাকরের গলা পেয়েই তেড়ে খিস্তি করে উঠলাম।

তুই কি বাপের বাপ হতে চাস।

এ কথা কেন বলছিস।

কাল হানিফকে কয়েকটা দায়িত্ব দিয়েছিলাম।

আমি যেটুকু জানি বলেছি।

এবার হানিফকে পার্মিশন দেব তোর রেকটামে রুল ভড়ে দিতে। সহ্য করতে পারবি। তাতেও যদি কাজ না হয় অর্জুনকে পাঠিয়ে দেব। এখন কলকাতায় এসেছে। সব খবর নিশ্চই পাচ্ছিস। তিনমাস শুইয়ে দিয়েছিলি, সব সাপের পাঁচ পা দেখেছিস। অনাদির লাস্ট আপডেট কি?

জানিনা।

সব জেনে যাবি।

আজ একটা লিখেছি। কাল আর্মস কেলেঙ্কারি ছাড়বো। কোন বাপ অনাদিকে বাঁচায় দেখবো। আমাকে দেশদ্রোহী এ্যাক্ট দেওয়া। তুইও বাঁচবি না। তোর সাম্রাজ্য অর্জুন অর্ধেক খেয়ে নিয়েছে। বাকিটুকু নিজে হাতে তুলে দেব। আমার জীবনে দিবাকর বলে কেউ থাকবে না। এতদিন মুরগী পুষেছি ডিম পাওয়ার জন্য। আমার ডিম কোথায়?

ওদিক থেকে কোনও সাড়াশব্দ নেই।

হানিফ।

বলো।

ওর পোছনে রুল ভড়ে দে। তাতেও যদি মুখ থেকে কথা না বেড়োয় ছুঁচ গরমকরে আঙুলে ঢুকিয়ে দে, তাতেও যদি কথা না বেড়োয় চোখের মধ্যে এ্যাসিড ঢেলে দে। তাতেও যদি কাজ না হয় কোমরটা ভেঙে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দে। ভিক্ষা করে খাবে।

অনি অনি তুই বিশ্বাস কর।

লাইনটা কেটে দিলাম।

রাঘবনকে ফোনে ধরলাম।

হ্যালো।

কে বলছেন?

অনি।

সরি!

আমার ম্যাসেজ পেয়েছিলে।

প্রথমে তো বিশ্বাস করতে পারি নি। তারপর মুথইয়া সব বললো।

তুমি একটু হাতটা খুলতে পারতে। তাহলে দাদার স্ট্রোকটা হতো না।

তুই বিশ্বাস কর। আমি ফ্যাক্স পাঠিয়েছিলাম।

তুমি কি মনে করো মাধবন বাঁচবে।

প্লিজ তুই এটা করিস না।

আমার দাদা পঙ্গু হয়ে গেছে। মাধবন তাকে তার সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে?

তুই আমার এই কথাটা রাখ। হুট করে কোনও ডিসিসান নিস না।

ওদের এতোবড়ো ক্ষমতা। তোমরা যখন তেলের জন্য কাঙালপনা করেছিলে, আমি আফতাবভাইকে বলে দেশের জন্য তেল পাঠিয়েছি। তার এই রিটার্ন।

প্লিজ অনি তুই আমার কথাটা একবার শোন।

এখনও আফতাবভাই তোমাদের যাকে যা দেওয়ার কন্টিনিউ দিয়ে চলেছে। আর আমার এই টুকু কাজ তোমরা করতে পারলে না।

তখন একটা ভ্যাকুমের মধ্যে পরেগেছিলাম।

আমাকে পর্যন্ত….।

আমি ওদের সাসপেন করেছি।

তুমি মাধবনকে আমার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। ওকে বলো ওর কোন লবি ওকে বাঁচায় আমি দেখবো।

তুই আমার এই রিকোয়েস্ট টুকু রাখ।

রাখবো না। তুমি জানো ভালোকরে আমার বাবা-মা নেই, দাদা, বড়োমা আমার বাবা-মা। তাদের সেফ্টিটুকু দিতে পারলে না। চুলোয় যাক আর সবাই।

একবার আমার কথা শোন।

না আমার ব্যবস্থা আমি করে নেব। তোমার লোক পাঠিয়েছ।

অনুপ সব বলেছে। আমি পাঠিয়ে দিয়েছি। কাকপক্ষী টের পাবে না। কথা দিলাম।

ঠিক আছে। কাজ হলে তোমাকে ফোন করবো। ফলো আপ করে যাও।

লাইনটা কেটে দিয়ে সাদা ফোনটা অন করে অর্জুনকে ধরলাম।

অর্জুন।

হ্যাঁ দাদা।

কোথায় আছিস?

ঠিক জায়গায় আছি। সব চলে এসেছে।

সকালে নার্সিংহোমের সামনে এসেছিলি।

ঝিনুক গেছিল। তোমার নার্সিংহোমের সামনে এখন মেলা বসে গেছে।

কিসের মেলা।

সন্ন্যাসীদের।

কারা কারা ঘুরছে।

মনে হচ্ছে সেন্ট্রাল থেকে একটা ঝাঁক এসেছে। দু-তিনটেকে চেনা ঠেকলো।

ঝিনুককে দেখতে পায় নি?

না।

কাল তুই কলকাতায় এসেছিস এখবরটা লিক হলো কি করে?

কি করে বলবো!

তোকে কারা কারা চেনে এমন কে কে আছে এখানে পাত্তা লাগা। মারবি না। জেনে আমাকে বলবি। আর শোন।

বলো।

দিবাকরের খোঁজ পেয়েছিস?

শুয়োরের বাচ্চাটা কোথায় আছে বলো।

আমি একটা খোঁজ পেয়েছি। আগে কনফার্ম হই, তারপর তোকে বলবো। তুড়ির দান চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে উড়িয়ে দিবি। তারপর মাধবন। যদি মনে করিস ধরা পরে গেছিস নিজে উড়ে যাবি। বাকিটা আমি সামলে দেব।

মাধবনের কেপ্টের ঠিকানাটা দাও, আমি আজই উড়িয়ে দিচ্ছি।

হরবর করবি না। এর আগের কেশটার কথা মনে আছে নিজে ফাঁসছিলি, আমাকেও ফাঁসাচ্ছিলি।

একটা ভুল হয়ে গেছে।

যখন সিগন্যল দেব তখন কাজ করবি।

ঠিক আছে।

তার আগে নিজে সটকে পরার লাইনটা পরিষ্কার করে নে। একমুহূর্ত দেশে থাকবি না।

আচ্ছা।

তোরা কেউ বেরবি না। একজন কাউকে দিয়ে নার্সিংহোমের আশেপাশে ওয়াচে রাখ। কিছু বুঝলেই আমাকে নক করবি। নিজে থেকে কিছু করতে যাবি না।

আচ্ছা।

ফোনটা কেটেই আবার রিং করলাম।

ভিকু।

কে বলছেন?

অনিদা।

অনিদা! আমি আপ্পে। তোমার নম্বরতো এটা নয়।

নতুন নম্বর। কয়েকদিনের জন্য নিয়েছি, এটা রেখে দে।

ভিকু কোথায়?

বেরিয়েছে।

এলে ফোন করতে বলবি এই নম্বরে। যদি না পায় একটা ম্যাসেজ করতে বলবি।

আচ্ছা।

লাইনটা অফ করে দ্বীপায়ণকে রিং করলাম।

দ্বীপায়ণ।

হ্যাঁ দাদা।

লেখাটা পড়েছো।

আমি তো অবাক হয়ে যাচ্ছি। তখন এতোটাকার আর্মস কেনা হয়েছিল বলে কাগজে প্রচুর লেখালিখি হয়েছিল। কিন্তু কেশটা যে এই কেউ জানে না।

আর কেউ দেখে নি।

একবারে না।

আজকের লিড নিউজ। কাউকে জানবে না। আমি যখন বলবো তখন। যদি আজ ধরাতে না পারো কাল ধরাবে। পারলে আজকের কাগজটা একটু ঝুলিয়ে রাখবে। আমার লাস্ট কনফার্মেশন নিয়ে তবে কাগজ ছাড়বে।

ঠিক আছে। তোমার কাছে সন্দীপদা যাবে।

সকালে ফোন করেছিল শুনলাম। কেন?

দরজায় কেউ নক করলো। মিত্রা উঠে খুলতে গেল। হাত তুলে বসতে বললাম।

সন্দীপদাকে খুব ধমকেছে।

কে?

কে আবার স্বরাষ্ট্রসচিব।

ওর প্যান্ট কোমড়ে থাকবে না। গদিটা আগে বাঁচাক তারপর দেখছি।

দ্বীপায়ণ চুপ করে রইলো।

ঠিক আছে। পরে তোমার সঙ্গে কথা বলছি।

আচ্ছা।

কনটিনিউ দরজায় কড়া নড়ে চলেছে।

আমার ফোন রাখার সঙ্গে সঙ্গে মিত্রা উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল। কনিষ্ক আমার মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো। মাথা দোলাচ্ছে।

কি করছিলি এতক্ষণ, দরজা খুলতে পারিস নি। কখন থেকে খট খট করছি।

ছোটোমা টর টর করে উঠলো।

মিত্রা হাসছে।

নিষিদ্ধ বাক্যালাপ শুনছিলাম। তোমার ছেলের হুকুম ছাড়া দরজা খুলি কি করে বলো। যদি উড়িয়ে-টুরিয়ে দেয়। বেঘোরে প্রাণটা যাবে।

ছোটোমা একবার আমার দিকে একবার মিত্রার দিকে তাকিয়ে চুপ করে গেল।

ভেতরে এলো, পেছন পেছন বড়োমা, দামিনীমাসি।

আমি আমার জিনিষপত্র গোছাতে শুরু করেছি।

তুই অফিস যাস নি! বড়োমা বললো।

যাওয়া হলো না।

আর যেতে হবে না।

ভাবছি যাব কিনা। মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ পাকিয়ে বললো।

ঘরের দরজা বন্ধ করে কি করছিল ও?

কততো কাজ। দাবা খেলছিল। চৌষট্টি ঘরের চাল। বুঝি না। কোন ঘর খুললো, কোন ঘর বন্ধ করলো। কোন ঘোরা এগোল কোন ঘোরা পেছোল, আবার মন্ত্রীকে সুরক্ষা করে একটা..।

চুপ করবি।

গলার তো আওয়াজ নেই ফ্যাস ফ্যাস করছে। চেঁচাস না। আওয়াজ আরও কমে যাবে।

দামিনীমাসি আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে।

ছোটোমা এগিয়ে এসে টেবিলে হাতের ব্যাগটা রাখলো।

কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেই পারতে, আবার কষ্ট করে আসতে গেলে কেন।

মিত্রা ফিক করে হেসে উঠলো।

আমি কট কট করে ওর দিকে তাকালাম।

কনিষ্ক মুখ ঘুরিয়ে হাসছে।

ফোনটা সাউন্ড অফ করে ভাইব্রেসন মুডে ছিল, নড়া-চড়া শুরু করলো। আমি ফোনটা হাতে নিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালাম।

তোকে বাথরুমে যেতে হবে না। এখানেই কথা বল। সবাই তোর কীর্তি জানে, কারুর এতটুকু টেনসন হবে না। আমি বলছি।

মিত্রার দিকে তাকালাম। হাসতে ভুলেগেছি।

তোর ছেলেমেয়েরাও তোর কীর্তি কলাপ টের পেয়ে গেছে। তুই বৃথা ওদের কাছে লোকাবার চেষ্টা করছিস।

আমার চোখের পলক পড়ছে না।

আমি বলিনি এটুকু তোকে বলতে পারি। তবে বলার লোকের অভাব নেই।

ফোনটা কানে দিলাম।

বল।

কোথায় ছিলে?

নার্সিংহোমে আছি।

আপ্পে নম্বরটা দিল। সকাল থেকে তোমায় বহুবার ফোন করেছি। স্যুইচ অফ।

কেন?

তোমাকে ওরাবার ছক কষা হয়েছে।

কে করেছে?

মনে হচ্ছে মাধবন। এখনও সিওর হতে পারি নি। দুপুরের ফ্লাইটে দু-জন যাচ্ছে।

কারা আসছে?

নাম বললে তুমি চিন্তে পারবে না। সবে লাইনে এসেছে। হাতটা ভালো। ঠাণ্ডা মাথা।

কটার ফ্লাইটে আসছে। কি নামে আসছে, আমাকে জানা।

তোমাকে ও নিয়ে ভাবতে হবে না। আমার লোক ওই ফ্লাইটে এক সঙ্গে যাবে।

কে আসবে?

তাদেরও তুমি চিনবে না। তবে এয়ারপোর্ট থেকে বাইরে বেরতে পারবে না। কথা দিলাম। বাকি মাধবনকে আমি বুঝে নিচ্ছি। যদি ও সত্যি পাঠিয়ে থাকে, ঠুকে দিয়ে তোমাকে খবর পাঠাবো, তুমি একটা নিউজ করে দেবে।

পাগলামো করিস না। ঝাঁঝিয়ে উঠলাম।

শুয়োরের বাচ্চার এতো দম। একটু করেকর্মে খাচ্ছিলাম তোমার দয়ায়, সেটুকুতে পর্যন্ত ভাগ বসিয়ে দিয়েছে। ভিকু চেঁচিয়ে উঠলো।

কোথায় গেছিলি, তখন ফোন করে পেলাম না।

গলাটা যতদূর সম্ভব নমনীয় করার চেষ্টা করলাম।

তোমাকে জানতে হবে না। ভিকুর গলায় সেই তেজ।

তাহলে নিজেদের মতো চল। আমাকে আর ফোন করবি না।

মনে হলো ভিকুর মতো শক্ত ছেলেও যেন কাঁদছে।

কিরে ভিকু! কাঁদছিস।

শুয়োরের বাচ্চা শেষ পর্যন্ত তোমাকে মারার ছক কষলো। যে জীবনে কোনও দিন কিছু হাত পেতে নিলো না, শুধু দিয়ে গেল। হারামী অর্জুনটা শুধু বললো, ভিকুদা তুই ওদিকটা সামলে দে, আমি এদিকটা সামলে দিচ্ছি। তিনমাসে একটাকেও ওরাতে পারলো না।

আমি বারণ করেছি। শোন আমার সঙ্গে রাঘবনের কথা হয়েছে। ও একটু সময় চেয়েছে। আর একটু অপেক্ষা করি।

আমার ভালো ঠেকছে না।

আমি সুরক্ষিত আছি। তুই চিন্তা করিস না। প্রয়োজনে এই নম্বরে ফোন করবি। এখন এটাই আমার নম্বর।

আচ্ছা।

পেছন ফিরে খুব নিচুস্বরে কথা বলছিলাম। দেখিনি কারা কারা এসেছে।

মারাঠী টানে হিন্দীতে কথা বলছিলাম।

ফ্যাস ফেসে গলা, ওরা হয়তো অর্ধেক বুঝতে পেরেছে, আর্ধেক বুঝতে পারিনি।

ঘুরে তাকালাম।

আবিদ, রতন, ইসলামভাই, ইকবালভাই ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে। আমার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে।

চলবে —————————



from বিদ্যুৎ রায় চটি গল্প কালেকশন লিমিটেড https://ift.tt/Gmr9uIN
via BanglaChoti

Comments